শনিবার,   ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   সকাল ৯:৩৪,  ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
Home নির্বাচন কমিশন তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন: কী হবে আজ?

।। জবাবদিহি ডেস্ক।।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বড় দুই দলের বাঁচা-মরার লড়াই হবে আজ তিন সিটির ভোটের মাঠে। রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ভোট নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপি ইসিকে জানিয়েছে, বর্তমানে তিন সিটিতে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নেই। আর অন্যদিকে, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা আওয়ামী লীগের।

তিন সিটিতে কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও ভোট উৎসব পালনে প্রস্তুত ভোটাররা। কী হবে আজ তিন সিটিতে সে প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পাঁচ মাস আগের এ সিটি ভোটকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গাজীপুর-খুলনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিন সিটিতে যাতে কোনো ধরনের ভুল-ত্রুটি ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

তিন সিটিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় সবার নজর থাকছে তিন সিটির ভোটে। সংসদ নির্বাচনের আগে তিন সিটি নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-বিএনপি, নৌকা-ধানের শীষের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। জনগণের কাছে কোন প্রতীকের কেমন কদর তাও প্রমাণ হবে এ নির্বাচনে।

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটে সিটি করপোরেশনের এই নির্বাচনে মাত্র ১৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট হবে। বাকি সব কেন্দ্রে ভোট হবে ব্যালট পেপার ব্যবহার করে সনাতন পদ্ধতিতে।

আর নির্বাচনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপির প্রায় ১২ হাজার সদস্য। তিন নগরীতে এই নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। নির্বাচন পরিচালনায় থাকবেন কমিশনের সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। আর প্রায় পাঁচশ পর্যবেক্ষক ও ছয় শতাধিক সাংবাদিক এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। সেই সঙ্গে ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে রাজশাহীতে ১২, বরিশালে ১২ ও সিলেটে ১১ জন ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা থাকবেন।

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি, বাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রধান দুই দলেই হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে তিন সিটি ভোটের গুরুত্ব অনেক। এ সিটি নির্বাচন যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শনিবার মধ্য রাত থেকে তিন সিটিতে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। প্রভাবশালীরা নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করলে বা অবৈধ প্রভাবের চেষ্টা করলে পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছে ইসি। ভোটের তিন দিন আগ থেকে ভোটের পর আরও তিন দিন পর্যন্ত বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের জন্য অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

ও/র

Leave a Reply